ঠাকুর এই গান গাইতে গাইতে বিভোর হতেন; সেই বিভোর অবস্থা যিনি দেখেছেন, তিনিই বুঝেছেন যে, নামের মহিমা কি!
চৈতন্যলীলায় গিরিশবাবু-বিরচিত নাম-মাহাত্ম্যের গীত তোমরাই তো গাও -
এমন মধুর হরির নাম, হরি বল'না।
সাধের পথে কিনবি হরি, সাধ কেন তোর হলো না।
পাপী তাপীর নাইকো বিচার, হরি বল্লে রে একবার,
করুণার তুলনা নাহি তাঁর,
নামে হও মাতোয়ারা, মিছা কাজে ভুল না।
ভাই, বিচার-তর্কে কিছু দরকার নেই; ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের প্রদর্শিত পথে খালি নাম সম্বল করে চল - দেখবে, সময়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছে গেছ। তোমাকে গীতাও পড়তে হবে না, বেদান্ত-সাংখ্য-দর্শনও দেখতে হবে না, পঞ্চতপাও করতে হবে না, তীর্থে তীর্থে চারি ধামেও ঘুরতে হবে না, ধ্যান-জপও করতে হবে না, সন্ন্যাসও নিতে হবে না, স্ত্রী-পুত্রও ছাড়তে হবে না, ঘর-দুয়ার-দেশ ত্যাগও করতে হবে না, কোন কঠোরতাই করতে হবে না; দয়ার নিধি, ভবপারের কাণ্ডারী রামকৃষ্ণদেবকে ধরে বসে থাক, অতি সত্বর কাজ হয়ে যাবে। দয়াল রামকৃষ্ণদেব নিজে বহুকাল কঠোর সাধন-ভজনে সিদ্ধি লাভ করে তাঁর ভজনবিহীন, সম্বলবিহীন, অনাশ্রয়, দীন শরণাপন্নদিগের জন্য সমস্ত সাধনার্জিত ফলগুলি সঞ্চয় করে রেখেছেন। পিতার বহু শ্রমার্জিত সম্পত্তি যেমন অকর্মণ্য অলস ছেলেরও ভোগ্য, তেমনি রামকৃষ্ণদেবের শরণাপন্নদের মধ্যে যিনি যতই নিকৃষ্ট হউন না কেন, তিনিও তাঁর সম্পত্তির অধিকারী। রামকৃষ্ণদেবকে আপনার চেয়েও আপনার মনে করে দুনিয়ার মজা লুঠো, কোন চিন্তা নেই; সময়ে দেখতে পাবে ঠাকুর ঠিক বন্ধনের পারে নিয়ে গেছেন। সাবধান - মাঝিকে ছেড়ো না, আর যা ইচ্ছা তাই কর। ঠাকুর রামকৃষ্ণ
No comments:
Post a Comment